রবীন্দ্রনাথের সিলেটের প্রতি আলাদা ভালো লাগা কাজ করেছিলো : পরিকল্পনামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ::    সিলেটের বিজ্ঞজনদের সাথে নিয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা তৈরি করার জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে পরামর্শ দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

বুধবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টায় সিলেটে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণ উৎসবের অংশ হিসেবে ‘সিংহ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ’ অনুষ্ঠানের সান্ধ্যকালিন পর্বে স্মরণ উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিবের বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের সাংস্কৃতিক বিকাশে আলাদা একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রাখলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এ পরামর্শ দেন।

Advertisement

তিনি বলেন, ‘সিলেটে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাংস্কৃতিক সেন্টার স্থাপনের যে প্রস্তাব করেছেন তাতে বুঝা যায় তিনি একজন সৃজনশীল মানুষ। যার প্রমাণ আমরা ইতোমধ্যে পেয়েছি। তাই আমার মনে হয় মেয়র সাহেব যে প্রস্তাব রেখেছেন সে প্রস্তাবের জন্য সুন্দর করে একটি পরিকল্পনা নিয়ে যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাজির হই তাহলে ফিরে আসবো না। তাই মেয়র সাহেবের প্রতি আমার পরামর্শ হবে আমার শ্রদ্ধেওজন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতসহ বিজ্ঞজনদের সাথে নিয়ে সাংস্কৃতিক সেন্টার স্থাপনের একটি পরিকল্পনা তৈরি করে আমাকে দেন, আমি সে পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী বরাবর উপস্থাপন করবো। আশা করি প্রধানমন্ত্রী আমাকে খালি হাতে ফেরাবেন না।’

পরিকল্পনামন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে বলেন, কোন মানুষ যদি বাংলার মাঠ, মাটি, সর্বোপরি মাতৃভূমিকে ধারণ করে বেঁচে থাকতে চায় তাহলে রবীন্দ্রনাথ চর্চার বিকল্প নেই। কারণ রবীন্দ্রনাথ তাঁর কর্মের সকল ক্ষেত্রে বাঙ্গালিত্বের চর্চার, বাঙালী বোধের জাগ্রত করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের সিলেটের প্রতি আলাদা একটি ভালো লাগা কাজ করেছিলো। তাইতো তিনি সিলেটকে শ্রীভূমি উপাধি দিয়েছিলেন।’

Advertisement

এম এ মান্নান আরো বলেন, ‘বাঙালী জাতীকে পুনরুদ্ধার করার জন্যই জাতীর জনক শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। যখন আমাদের বাঙালি স্বত্বাকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিলো তখনই জাতীর জনক স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে এই দেশের মানুষকে মুক্ত হবার কথা বলেছিলেন, তাই আজ আমরা স্বাধীন।’

বর্তমান সময়ে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী বর্তমান সময়ে যে পথে এগোচ্ছেন তা নিশ্চয় বাঙ্গালির কল্যাণের জন্য, বাঙালিকে তাঁর ঐতিহ্যের পরিচয় বাঙালি বোধ ধারণের মধ্যদিয়ে বেঁচে থাকার পথ মসৃণ করছে।’

রবীন্দ্র স্মরণ উৎসবের প্রশংসা করে বলেন, ‘১৯১৯ সালে এই সিংহ বাড়িতেই এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। যা এখন শতবর্ষ পূরণ করলো। একশত বছর পর এরকম একটি পরিসরে তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে, সত্যি এটা আনন্দের এবং গৌরবের। আমার বিশ্বাস এর মধ্যদিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাঙালী বোধ জাগ্রত করার যে চেষ্টা এর অগ্রযাত্রা আর একধাপ এগোল।’

সব শেষে রবীন্দ্রনাথ চর্চার মধ্যদিয়ে মাতৃভূমি বাংলার প্রতিটি মানুষ প্রকৃত বাঙালি হিসেবে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হবে এমন আশা ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

অনুষ্ঠানে স্মরণ উৎসবের আহ্বায়ক আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সভাপতিত্বে মূখ্য আলোচ্যক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারতের গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাবেক ডিন উষা রঞ্জন ভট্টাচার্য, বিশেষ আলোচ্যক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান, অধ্যাপক বিশ্ব দিপ চৌধুরী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণ-২০১৯’ এর সদস্য সচিব আরিফুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ড. একে আব্দুল মুবিন, অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহণ করে সংগীত নিকেতন, সা রে গা মা পা, শিল্পাঙ্গন,সিংহ বাড়ি, গীতবিতান বাংলাদেশ, শ্রুতি, আনন্দলোক, নৃত্যশৈলী, রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ, ছন্দ নৃত্যালয় ইত্যাদি সংগঠন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮ টায় এক শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে সকলে প্রবেশ করেন সিংহ বাড়িতে। এ সময় গানে গানে রবীন্দ্রনাথের শত বছর আগের স্মৃতি স্মরণ করা হয়।

এরপর সিংহবাড়িতে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক পীযুষ কুমার দে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন সংগঠন ও শিল্পীরা কবিগুরুর গান পরিবেশন করছেন।

স্থানীয় শিল্পীদের উদ্যোগে সিংহবাড়িতে একটি আর্ট ক্যাম্পেরও আয়োজন করা হয়েছে। সিংহবাড়ির এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আয়োজন চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।

Advertisement

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

এ জাতীয় আরও সংবাদ 👇



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৩৫,৫৮৫
সুস্থ
৭,৩৩৪
মৃত্যু
৫০১

বিশ্বে

আক্রান্ত
৫,৬০১,৫২১
সুস্থ
২,৩৮১,২৮০
মৃত্যু
৩৪৮,১৩২


সাহরি ও ইফতারের সময় সূচি

সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী
( মঙ্গলবার,২৬ মে ২০২০ )
 বিভাগ
 সাহরি শেষ
 ইফতার
 ঢাকা
 ০০:০০ মিঃ
 ০০:০০ মিঃ
 চট্টগ্রাম
 ২৩:৫৮ মিঃ
 ২৩:৫২ মিঃ
 সিলেট
 ২৩:৫১ মিঃ
 ২৩:৫৬ মিঃ
 রাজশাহী
 ০০:০৫ মিঃ
 ০০:০৮ মিঃ
 বরিশাল
 ০০:০২ মিঃ
 ২৩:৫৮ মিঃ
 খুলনা
 ০০:০৬ মিঃ
 ০০:০২ মিঃ
 রংপুর
 ২৩:৫৯ মিঃ
 ০০:০৬ মিঃ
 ময়মনসিংহ
 ২৩:৫৭ মিঃ
 ০০:০১ মিঃ

Facebook Page


Scroll Up