আইসিসিতে মিয়ানমার সৈনিকের স্বীকারোক্তি : রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারে সম্ভাবনার দ্বার খুললো

বাংলা ট্রিবিউন :: রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়ে আসছে মিয়ানমার সামরিক জান্তা ও বেসামরিক সরকার। ২০১৭ সালে চরম নির্যাতন ও গণহত্যার শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এতদিন ধরে এই নির্যাতনের পরিস্থিতিগত তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে অভিযোগ করা হতো। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো দুই জন মিয়ানমার সৈনিক, যারা সরাসরি এই নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) স্বীকারোক্তি দিলো। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা গণহত্যা বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হলো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো মোহাম্মাদ শহীদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি একটি বড় ঘটনা। প্রথমবারের মতো যারা অপরাধ সংঘটিত করেছে, তারা বিষয়টি স্বীকার করেছে। এর ফলে বিচার ও দায়বদ্ধতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বিচারের জন্য এটি বড় পদক্ষেপ জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, ‘এর প্রভাব আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত (আইসিজে) উভয় জায়গাতে পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে, রোহিঙ্গারা নিরাপদ নয়। তাদের নিরাপত্তার জন্য এবং সেখানে গণহত্যার প্রমাণাদি সংরক্ষণের জন্য রাখাইনে সেফ জোন তৈরি করা হচ্ছে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিজের মতো করে তদন্ত করে তার ভিত্তিতে মামলা পরিচালনা করবে এবং এ ধরনের সাক্ষ্যপ্রমাণ উভয় কোর্টে উপস্থাপন করা যাবে বলে মনে করেন সাবেক এই সচিব।

শহীদুল হকের সঙ্গে একমত পোষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই স্বীকারোক্তি আইসিসির হাতকে শক্তিশালী করবে।’

আইসিসিতে মামলা দুইভাবে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সংস্থার কৌঁসুলিরা (প্রসিকিউটর) এখন আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত করতে পারবে। কোর্টে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারা মামলা করতে পারে অথবা প্রসিকিউটররা তদন্ত করে নিজেরা মামলা করতে পারে এবং এক্ষেত্রে প্রসিকিউটরদের কাছে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ আছে বলে মনে হচ্ছে।’

এখন মিয়ানমার বড় ধরনের চাপে পড়বে জানিয়ে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হবে বিষয়টি নিয়ে আরও চাপ সৃষ্টির ব্যবস্থা করা।’

২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের অংশগ্রহণ করা মিও উইন তুন (৩৩) এবং জ নায়েং তুন (৩০) নামক দুই সৈনিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময়ে নারী, শিশুসহ নিরীহ মানুষকে হত্যা, গণকবরে মাটি চাপা দেওয়া, ধর্ষণসহ অন্যান্য অপরাধের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, শুধু এই দুজনই অন্তত ১৮০ জন রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা ১৯ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন যারা সরাসরি এ ধরনের নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছে। ছয় জন সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা এসবের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই দুই সৈনিক।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

এ জাতীয় আরও সংবাদ :




Facebook Page


Scroll Up