সর্বশেষ সংবাদ:
হায় মধ্যবিত্ত! রোটারী ক্লাব সিলেট গার্ডেন ভিউ’র উদ্যোগ ও প্রবাসীদের অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ প্রাথমিকের সংসদ টেলিভিশন ক্লাসের রুটিন প্রকাশ করোনাকালে শবে বরাত : ঘরে বসে ইবাদত করার আহ্বান পরিকল্পনামন্ত্রীর রাজধানীতে একই পরিবারের ৬ জন করোনা আক্রান্ত মৌলভীবাজারে মারা যাওয়া মুদি দোকানদার জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত করোনা : সুনামগঞ্জের তিন উপজেলায় টেস্ট কিটসহ চিকিৎসা সামগ্রী পাঠালেন পরিকল্পনামন্ত্রী চৌগাছায় ২ মাথা, ৪ হাত ও ৪ পা বিশিষ্ট শিশুর জন্ম কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর ও রাহেলের উদ্যোগে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও খ্যাদ সামগ্রী বিতরণ ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ কানাইঘাটে বখাটের ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী আহত, হামলাকারী আটক নামাজ শেষ করে আইভি শুনতে পান করোনায় নিউইয়র্কে মারা গেছেন তিনি ব্রিটেনে হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, ২৪ ঘন্টায় ৭০৮ জনের মৃত্যু সিলেটে প্রথম করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক ভুঁয়া লন্ডনীকন্যা সেজে বিয়ে, অত:পর তিনবোন জগন্নাথপুরে গ্রেফতার স্বামীকে ‘ভিডিওকলে’ রেখে স্ত্রীর আত্মহত্যা করোনা ইস্যুতে চীনের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির আবেদন জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য ‘আমরা হাত ধুয়ে কি করব, যদি পেটে ভাত না থাকে?’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের অন্তঃসত্বা বান্ধবী করোনা আক্রান্ত

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

হাওরবাংলা ডেস্ক :: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল বাঙালির বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে দিকনির্দেশনা। এই ভাষণ ছিল একাত্তরের বজ্রকঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র। এই ভাষণ কেবল বাঙালি জাতির নয়, বিশ্ববাসীর জন্যও প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বাণীতে এসব কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হাকিম ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Advertisement

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ মার্চ বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় একটি দিন। এ দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার অনন্য-সাধারণ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে অর্জন করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

স্বাধীনতা বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন হলেও তা একদিনে অর্জিত হয়নি উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনের এই দীর্ঘ বন্ধুর পথে বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম সাহস, সীমাহীন ত্যাগ-তিতীক্ষা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সঠিক দিকনির্দেশনা জাতিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।

Advertisement

তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১ মার্চ থেকে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) লাখো জনতার উদ্দেশে বজ্রকণ্ঠে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, তা ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, অনন্য বাগ্মিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় ভাস্বর ওই ভাষণে জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, যা ছিল মূলত স্বাধীনতার ডাক।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিক সেই ভাষণের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, বাঙালি জাতির বহুকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। তারই নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে পৃথিবীর কালজয়ী ভাষণগুলোর অন্যতম হিসেবে আখ্যা দিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তিকামী জনগণকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ওই ভাষণ ছিল এক মহামন্ত্র। একটি ভাষণ কিভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এ ভাষণের কারণে বিশ্বখ্যাত নিউজউইক ম্যাগাজিন ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল সংখ্যায় বঙ্গবন্ধুকে ‘পোয়েট অব পলিটিক্স’ হিসেবে অভিহিত করে। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল আমাদের নয়, বিশ্ববাসীর জন্যও প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।

ঐতিহাসিক এই দিনের শিক্ষাকে স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুর আজন্মলালিত স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রচেষ্টা সবাইকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। একইসঙ্গে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজন মুজিববর্ষ ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের পাশাপাশি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আওয়ামী লীগ সরকারের ‘রূপকল্প ২০২১’ ও ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।

৭ মার্চ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ এবং ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ১১ বছরে আমরা দেশের প্রতিটি খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করেছি। এরই মধ্যে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ আজ আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২৬ মার্চ ২০২১ সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করছি। তিনি যে সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, বাঙালি জাতির জন্য যে উন্নত জীবনের কথা ভেবেছিলেন, তার সেই স্বপ্নকে আজ আমরা বাস্তবে রূপ দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ অঞ্চলের জনগণের ওপর নেমে আসে বৈষম্য আর নির্যাতনের যাঁতাকল। অর্থনৈতিক বৈষম্য ছাড়াও সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী।

৭ মার্চের পটভূমি বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুরু হয় বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। ১৯৪৮-৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ৬-দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০’র সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের পথ ধরে বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম যৌক্তিক পরিণতির দিকে ধাবিত হয়। এরপর আসে ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। রেসকোর্সের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির জনক স্বাধীনতার পথ-নকশা তুলে ধরলেন। যুদ্ধ অনিবার্য জেনে তিনি শত্রুর মোকাবিলায় বাঙালি জাতিকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।’ জাতির পিতার এই সম্মোহনী আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।

শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ। লেখক ও ইতিহাসবিদ জ্যাকব এফ ফিল্ডের বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা ‘উই শ্যাল ফাইট অন দ্য বিচেস: দ্য স্পিচেস দ্যাট ইনস্পয়ার্ড হিস্টোরি’ গ্রন্থে এই ভাষণ স্থান পেয়েছে। অসংখ্য ভাষায় অনুদিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যে এই ভাষণ স্থান পাওয়ায় গোট দেশ ও জাতি গর্বিত। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালির বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতার এই ভাষণের দিকনির্দেশনাই ছিল সে সময় বজ্রকঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে অমিত শক্তির উৎস ছিল এ ঐতিহাসিক ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ আমাদের ইতিহাস এবং জাতীয় জীবনের এক অপরিহার্য ও অনস্বীকার্য অধ্যায়, যার আবেদন চির অম্লান। কালজয়ী এই ভাষণ বিশ্বের শোষিত, বঞ্চিত ও মুক্তিকামী মানুষকে সবসময় প্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় আরও উচ্চাসনে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্পে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশকে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ আবাসভূমিতে পরিণত করব— ঐতিহাসিক ৭ মার্চে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। বাসস।

Advertisement

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

এ জাতীয় আরও সংবাদ 👇


Facebook Page


Scroll Up