সর্বশেষ সংবাদ:
সুনামগঞ্জে ইভটিজিং-এর প্রতিবাদ করায় নাট্যকর্মীকে হত্যার হুমকি মুশির ডাবল, নাঈমের ঘূর্ণিতে চালকের আসনে বাংলাদেশ দেশের বিদ্যুৎ খাতে আরো জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবল হাঁকালেন মি. ডিপেন্ডেবল ৫ দিনের রিমান্ডে পাপিয়া আনোয়ার ইব্রাহিম নয়, তার স্ত্রীই হচ্ছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী! প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের পদত্যাগ কি লেখা ছিল সালমান শাহ’র সুইসাইড নোটে ‘সামিরা-শাবনূর দুইজনকে নিয়েই সংসার করতে চেয়েছিলেন সালমান’ পর্যটকদের মিলনমেলায় পরিণত তাহিরপুরের শিমুল বাগান দ্বিতীয় বিয়ে করতে এসে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী গ্রেফতার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার পাপিয়ার কাছ থেকে আমরা শহরের সকল সুবিধা গ্রামে দিচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী যুবমহিলা লীগ থেকে পাপিয়া বহিষ্কার খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি পিছিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি মুজিব বর্ষে ​​​​​​​আসছে ২০০ টাকার নোট ও স্বর্ণ মুদ্রা পরিকল্পনামন্ত্রী কাছে দিরাই’র মেয়রের ২ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জগন্নাথপুর পৌরসভার উপ-নির্বাচন, নৌকার মাঝি হতে চান ১২ নেতা সিলেটে ১৮ মামলার আসামি ডাকাত ফটিক নিহত, জনমনে স্বস্তির নিশ্বাস আটক শিবির ক্যাডারের দেয়া তথ্যে জকিগঞ্জ থেকে অস্ত্র উদ্ধার

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে চলছে অবৈধভাবে মৎস্য নিধনের মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রামসার সাইট খ্যাত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে পানি কমতে শুরু করার সাথে সাথেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অবৈধ মৎস্য শিকারীরা।

হাওরের আলমের দোয়ারসহ ছোটবড় কয়েকটি বিলে অবৈধভাবে কোনাজাল, কারন্টে জাল ও চৌহন্দাজাল দিয়ে মাছ নিধনের মহোৎসব শুরু হয়েছে।

Advertisement

প্রতি দিনেই চলছে অবৈধভাবে মাছ নিধন। তবে সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত এ হাওরের আলমের দোয়ার ও পাটলাই নদীতে অবৈধভাবে কোনাজাল দিয়ে মৎস্য নিধনের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকগুন।

সকালে এসব মাছ বিক্রি করার জন্য শ্রীপুর বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। বাংলদেশের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ‘মাদার ফিশারিজ’এর মধ্যে টাঙ্গুয়ার হাওর অন্যতম।

Advertisement

ছোট-বড় ৫২টি আন্তঃসংযুক্ত বিলের সমন্বয়ে গঠিত এই হাওরের আয়তন ৯ হাজার ৭শত ২৭ হেক্টর। মিঠা পানির মাছের অন্যতম বড় উৎস এই টাঙ্গুয়ার হাওরে।

২০১৩-১৪ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরে মাছের উৎপাদন ছিল লক্ষ্যনীয়,কর্তৃপক্ষের সঠিক পরিকল্পনা ও নজরদারির কারণে সেই সময়ে হাওরে মাছের উৎপাদন সন্তোষজনক জনক হলেও দিনদিন কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে মৎস্যের উৎপাদন নাজুক হয়ে পরেছে।

চলতি বছর টাঙ্গুয়ার হাওরের মাছের উৎপাদন ধরে রাখা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অবৈধ মাছ শিকারীদের অবৈধভাবে মৎস্য আহরণের কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রম সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।

হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ মৎস্য আহরণের কার্যক্রম।

মৎস্য বিভাগের তথ্য সুত্রে জানা যায় , ৩০ সেন্টিমিটারের নিছে বোয়াল আইড়, ২৫ সেন্টিমিটারের নিছে যে কোনো কার্প জাতীয় মাছ, পোনা মাছ এবং মা মাছ ধরা যাবে না । কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা মানছে না স্থানীয় কিছু উগ্রপন্থী জেলেরা।

গত  মাসের শেষের দিকে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে তাহিরপুর থানা পুলিশ ও টাঙ্গুয়ার হাওর কমিউনিটি, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা দিনভর সমন্বিত অভিযান পরচালনা করে তিনলক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল জব্দ করে আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

কিন্তু এত কিছুর পরও থামছে না নিষেধাজ্ঞায় থাকা মাছ ধরা। বাদ যাচ্ছে না মা মাছ নিধন। টাঙ্গুয়ার হাওর দেশের অন্যতম প্রধান মাছের উৎস স্থল হওয়ায় স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে এখানকার মাছ যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

এ হাওরের মাছ খুব সুস্বাদু। এতে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালো বাউস, আইড়, বোয়াল, শোল, গজার, ঘনিয়া ও ছোট প্রজাতির কই, মাগুর, পাবদা, সিং, পুটি, টেংরা, ভেড়া, মলা, মাছসহ সব প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় ।

এককালে নানিদ ও মহাশুলও পাওয়া যেত। এক কথায় মিটাপানির এমন কোনো প্রজাতির মাছ ছিল না, যা হাওরে পাওয়া যেত না। অনেক প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

যেমন- পাঙ্গাস, চিতল, পাবদা, মহাশুল,বাছা, স্বরপুটি, রানি, আরও অনেক মাছ। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাজার ফুট লম্বা একেকটি জালে ছোট মাছ থেকে শুরু করে সবধরনের বড় মাছ ধরছেন মাছ শিকারীরা। ১০-১২জন লোক একেকটি জালে ৮হতে ১০ জালের প্রায় শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে হাওরের মাছের অভয়াশ্রম আলমের দোয়ার, রৌহা, হাতিরগাদা, লেইছ্যামারা, রুপাবুই সহ বিভিন্ন নদী ও বিলে কোনাজাল আজহান চৌহন্দাজাল দিয়ে মৎস্য আহরণ করছে।

স্থনীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গুয়ার সংলগ্ন শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের কয়কেটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। যাদের কাছে রয়েছে হাজার ফুটের উপরে দীর্ঘ একাধিক কোনাজাল। এসব কোনাজাল দিয়ে বর্ষা ও হেমন্ত মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে মাছ শিকার। বড় ধরনের একেকটি বেড়জাল টানতে ১২-১৪ জন জেলে লাগে। এসব বেড়জালের কারণে হাওরে মাছের বসতি দিন দিন কমে যাচ্ছে।

এছাড়াও হাওরের চারপাশের বিভিন্ন গ্রামের সংঘবদ্ধ জেলেদের রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক চৌহন্দাজাল এসব জালের শুধু মৎস্য নিধনই নয়, জালের আঘাতে হাওরে জলজ উদ্ভিদ কিংবা শেওলা জন্ম নিতে পারে না। অবধৈভাবে শিকার করা এসব মাছ নৌকা ও ভ্যানে দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়ে যান বিক্রেতারা।

এ ব্যাপারে টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ কবির বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর পারের কিছু উগ্রপন্থী জেলে রয়েছে। তাদের হাতে আমাদের কমিটির অনেকে মারধরের শিকার হয়েছেন।

এ সকল অবৈধ মৎস্য আহরণকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। তা না হলে এ হাওরের অতিত ঐতিহ্যকে ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

Advertisement

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

এ জাতীয় আরও সংবাদ 👇


Facebook Page


Scroll Up