জগন্নাথপুরে চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চিকিৎসকের অবহেলায় আমান রহমান সাড়ে তিন মাসের এক শিশু মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশু আমান উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাঘময়না গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) লিখিত একটি অভিযোগ পত্রে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়াও  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডায়েরিতে ওই শিশুর ঠিকানা ভুল লেখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগ পত্রে।

অবহেলায় মৃত্যুর শিকার শিশুর স্বজন ও অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারী  শিশু আমান জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বহি.বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নাজমুল সাহাদাত বলেন চিন্তার কোন কারণ নেই, সামান্য শ্বাসকষ্ট হয়েছে গ্যাস দেয়ার পর ঠিক হয়ে যাবে। পরে জরুরী বিভাগে গ্যাস দেয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে শিশুটিকে ভর্তি করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।

এরপর তাকে শিশু বিভাগে ভর্তি করে বেলা ১টার দিকে শিশু বিভাগের নার্স টিংকু আচার্য্য তার শরীরের বিভিন্ন অংশের মাংসল স্থানে ৬টি কেলুনা ইনজেকশন পুশ করেন। শরীরের রগে পুশ না করে মাংসের মধ্যে পুশ করায় তার বাবা জিয়াউর রহমান প্রতিবাদ করলে দায়িত্বরত ওই নার্স অসদাচারণ করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় আবারও তাকে একইভাবে আরো ছয়টি কেলুনা পুশ করা হয়। রাত ১২টার দিকে ওই শিশুর অবস্থার চরম অবনতি হলে তার পরিবারের লোকজন জরুরী বিভাগের চিকিৎসা ডা. নামজুল সাহাদাত ও কর্মরত ওয়ার্ডের কোন নার্সকে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাননি। এক পযার্য়ে শিশুটি মৃত্যের কোলে ঢলে পড়ে।

শিশুর বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, ডাক্তার নার্সদের গাফিলতির কারণে আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলের শরীরের রগ দিয়ে কেলুনা পুশ না করে জোরপূর্বক তার শরীরের হাতে ও পায়ের বিভিন্ন অংশ কেলুনা পুশ করা হয়। এতে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়। আমি প্রতিবাদ করলেও নার্স টিংকু আমাকে গালিগালাজ করে ওয়ার্ড থেকে বের করে দেন। রাত ১২টার দিকে আমার ছেলের অবস্থায় চরম অবনতি ঘটলে পাগলের মতো হাসপাতালের বিভিন্ন ডাক্তার ও নার্সকে খোঁজে পাইনি। চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্বহীনতার কারণে অবশেষে আমার ছেলের মৃত্যু হয়। আমরা ন্যায় বিচারের জন্য লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নার্স টিংকুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওই শিশুর চিকিৎসার সময় আমি ছিলাম না। ওই সময় কোন নার্স তার সঙ্গে ছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি কিছুই জানেন না।

ওই দিন জরুরী বিভাগে দায়িত্বে থাকা জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. নাজমুল সাহাদাত বলেন, রাত ৮টার দিকে আমি শিশুটিকে দেখে এসেছি। শিশুর অবস্থার অবনতি হলে আমরা তার পরিবারকে বলেছি সিলেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এরপর রাত দুইটার দিকে শিশুটি মারা যায়।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মককর্তা (চ.দা.) ডা. শায়খুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

এ জাতীয় আরও সংবাদ :




Facebook Page


Scroll Up