সর্বশেষ সংবাদ:
আবরার হত্যা মামলায় ২৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট আফগানিস্তানে গাড়ী বোমা হামলায় নিহত ৭ আইসিইউতে সুর সম্রাজ্ঞী লতা আটলান্টিকের সঙ্গে গভীর প্রণয়ে পৃথিবীর মঙ্গল ‘নামিব’ (ভিডিও) কামরানের কাছে বিস্তারিত শুনে সিলেটে রবীন্দ্র উৎসবে আসেননি প্রধানমন্ত্রী’ সৌদিতে নারীকর্মী না পাঠানোর দাবি সংসদে বিশ্বম্ভরপুরে গাঁজাসহ যুবক আটক লাশের সারিতে স্ত্রীকে, হাসপাতালে পেলেন মেয়েকে ছিলেন মেম্বার, এখন ৯১ কোটি টাকার মালিক আ.লীগ নেতা সংসদে রাঙ্গাকে বহিষ্কারের দাবি বিরোধী দলীয় সাংসদদের তোপের মুখে প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী নেপালে রাষ্ট্রপতিকে লালগালিচা সংবর্ধনা ট্রেন দুর্ঘটনা : ১৫ লাশ হস্তান্তর স্বামীর মৃত্যুর পাঁচ দিনের মাথায় ট্রেন দুর্ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যু প্রেসক্লাব সভাপতি কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজের বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ৫ কেজি দুধের চেয়েও পেঁয়াজের দাম বেশি! প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক ১১তম, সহকারী শিক্ষকের বেতন ১৩তম গ্রেডে ভারত রপ্তানি বন্ধ রাখায় কমছে না পেঁয়াজের দাম ট্রেন দুর্ঘটনা : পরিচয় পাওয়া নিহত ১০ জনের ৬ জনই সিলেটের সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ৭৫বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন উদ্বোধন
ফাইল ছবি

পরিকল্পনামন্ত্রীর এক ‘ধমকে’ ব্যয় কমলো ১৭৩৯ কোটি টাকা

হাওর ডেস্ক :: আদমশুমারি হিসেবে পরিচিত জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ব্যয় প্রস্তাব করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের কাছে ওই প্রস্তাব পাঠানো হলে ব্যয়ের ফিরিস্তি দেখে তাজ্জব বনে যান তিনি। প্রকল্প প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিবিএস কর্মকর্তাদের এক ধমক দিয়ে ব্যয় প্রস্তাব যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেন তিনি। ওই ধমকের পর নতুন করে প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবে সাড়ে ৩ হাজার কোটি থেকে ব্যয় ১ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা কমানো হয়েছে, নতুন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ৭৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা কত, তা জানতে ১০ বছর পরপর আদমশুমারি বা জনশুমারি করে বিবিএস। সর্বশেষ ২০১১ সালের শুমারিতে ব্যয় হয়েছিল ২৩৭ কোটি টাকা। আসছে ২০২১ সালে পরবর্তী শুমারি হবে। ওই শুমারির জন্য নেওয়া প্রকল্পে ২০১১ সালে ব্যয়ের তুলনায় ১৫ গুণ বাড়িয়ে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব দেয় বিবিএস।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ হয়েছিলাম। এরপর কীভাবে ব্যয় কমানো যায়, খোঁজখবর নিতে বলেছিলাম। এখন ব্যয় কমানো হয়েছে বলে শুনেছি।

১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকায় জনশুমারি করা গেলে শুরুতে কেন সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছিল এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমিও সেটাই ভাবছি। কাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। ওই বৈঠকে এ ব্যয় আরও কমিয়ে আনা যায় কি না দেখব।’

বিবিএসের পাঠানো সংশোধিত প্রস্তাবনা অনুসারে, ২০২১ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে দেশীয় অর্থায়ন বা জিওবি থেকে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৭৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আর বৈদেশিক সহায়তার অংশ ধরা হয়েছে ১৮৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। জাতিসংঘের ইউএনএফপিএ, ইউএসএআইডি, ইউনিসেফ ও ডিএফআইডি অনুদান হিসাবে এই অর্থ দেবে।

মন্ত্রীর ধমকের পর সংশোধিত প্রস্তাবনায় বৈদেশিক সহায়তা অংশ অপরিবর্তিত রেখে দেশি অর্থায়নের অংশে ব্যয় কমানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, এটা ‘দুর্নীতির নীল নকশা’র অংশ। মন্ত্রী বলার পর দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে, সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল কেন? যদি এই ব্যয় না কমানো হতো, তাহলে এই অতিরিক্ত টাকা লুটপাট হতো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা আরও বলেন, পরিকল্পনা কমিশন বেশ কয়েকটি খাতে আপত্তি জানিয়েছিল। ব্যয় কমানো নিয়ে বৈঠক হয়েছে একাধিকবার। এরপরও সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় কিছুটা বেশিই আছে বলে মনে করি।

প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল হক সরদার বলেন, সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তির কারণে ব্যয় কমাতে হয়েছে। তিনি বলেন, ১০ বছর পর জনশুমারি হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যয় বৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়। এছাড়া এবারের শুমারিতে সুপারভাইজার ও গণনাকারীর সংখ্যা বেড়েছে, তাই ব্যয়ও বেড়েছে।

শুরুতে দ্বিগুণ প্রস্তাবের পর অর্ধেক টাকায় কীভাবে জনশুমারি করা হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখন অর্ধেক বরাদ্দেই ম্যানেজ করতে হবে। কী আর করার।’

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, বিবিএসের প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) নিয়ে এরই মধ্যে দুটি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়েছে। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রথম পিইসি সভায় প্রকল্পটির ব্যয় পর্যালোচনায় যুক্তিযুক্তকরণ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির পর্যালোচনার পর দ্বিতীয় পিইসি সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়। ব্যয় যৌক্তিকীকরণ কমিটির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক অংশে দ্বিগুণের বেশিও ব্যয় ধরা হয়েছিল। পরে কমিশনের আপত্তির মুখে কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর বিষয়ে একমত হন বিবিএসের কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই করে প্রকল্প ব্যয় অর্ধেকে নামিয়ে নিয়ে আসে।

বিবিএস জানায়, প্রস্তাবিত ২০২১ সালের আদমশুমারিতে ই-মেইল, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, টেলিফোন এবং পিক অ্যান্ড ড্রপ পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এজন্য অভিজ্ঞতা অর্জনে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরিকল্পনা কমিশন প্রশিক্ষণ ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলে। নতুন প্রস্তাবনায় এ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। টেলিফোন, ফ্যাক্স ও ইন্টারনেট খাতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয় ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার। সংশোধিত নতুন প্রস্তাবে তা কমিয়ে ১০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন খাতে ৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়। এখন এ ব্যয় নেমে এসেছে ২৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকায়। দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণ খরচের জন্য ৪২ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হলেও সংশোধিত প্রস্তাবে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকায়। এছাড়া ম্যাপিং খাতে ৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ১০ লাখ টাকায়। প্রকল্পের আপ্যায়নবাবদ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৩১ কোটি টাকা, নতুন সংশোধিত প্রস্তাবে এটি ১৩১ কোটি টাকা কমিয়ে ধরা হয়েছে ৯৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের হারারিং চার্জ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, পরিকল্পনা কমিশন এ খাতের ব্যয় ২৩ কোটি টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার পরামর্শ দেয়। নতুন প্রস্তাবনায় এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এ হিসাবে এ খাতে ব্যয় কমেছে ৬১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এছাড়া প্রকল্পের জন্য গাড়ি, তেল, লুব্রিকেন্ট এবং গ্যাস-জ্বালানি খাত, আপ্যায়ন খাত, গাড়ি কেনাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমিয়ে আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রকল্পের অনেক খাতেই বাড়তি ব্যয় ধরা হয়েছিল। পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে একাধিকবার পিইসি সভা করে এগুলো কমানো হয়েছে। নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা আগামী একনেক সভায় উপস্থাপন করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, দেশে প্রথম গৃহগণনা হয় ১৯৭৩ সালে আর আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। ১৯৮১ সালে আদমশুমারি ও গৃহগণনা একসঙ্গে করা হয়। ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান আইনের মাধ্যমে আদমশুমারিকে জনশুমারি করা হয়। এ শুমারির মাধ্যমে এটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশের প্রতিটি খানা ও শতভাগ জনগণকে গণনার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে এই গণনা পরিচালনা করতে চায় বিবিএস। এখন প্রকল্প অনুমোদন হলেও তার আগপর্যন্ত নিজেদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে সংস্থাটি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

এ জাতীয় আরও সংবাদ 👇